সিরাজগঞ্জ: জেলার সদর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমবয়সী বন্ধুর ছুরিকাঘাতে শাকিল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাকিল ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যাকারীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিলের সঙ্গে তার সমবয়সী এক যুবকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও তাদের মধ্যে কয়েকবার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবারও দুজনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় প্রতিপক্ষ যুবক ধারালো ছুরি দিয়ে শাকিলের ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন শাকিল। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল ও তার বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত শাকিলের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
তদন্তের স্বার্থে হামলাকারীর নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে শাকিল হত্যার বিচার ও আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে আজ বিকেল ৩টায় ভুরভুরিয়া এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক। দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।