সিরাজগঞ্জ: জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কাবাড়িপাড়া এলাকায় মসজিদ কমিটি গঠন ও ঈদের মাঠের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) জুমার নামাজের আগে কাবাড়িপাড়া শাহী জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবাড়িপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন এবং ঈদের মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঈদের মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা একপর্যায়ে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে-অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে উত্তরপাড়ার বসির উদ্দিনের ছেলে শাহীদুল ইসলাম এবং দক্ষিণপাড়ার নাসের শেখের ছেলে রবিউল শেখ গুরুতর আহত হন। আহতদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়। এ ছাড়া উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে।
খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ‘মসজিদ কমিটি ও ঈদের মাঠকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ ধরনের সংঘর্ষকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।