Tuesday 26 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জমেনি ঈদ কেনাকাটা, কিছুটা ভীড় ফুটপাতে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ মে ২০২৬ ১৬:১৫

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। উৎসবের এই শেষ মুহূর্তে যেখানে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে পা ফেলার জায়গা থাকার কথা নয়, সেখানে এবার দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। দেশের অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের বাজার গাউসিয়া ও নিউমার্কেট এলাকায় চিরচেনা সেই উপচে পড়া ভিড় এবার নেই। ক্রেতাদের আনাগোনা একেবারেই কম, আর যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই কেবল ঘুরে ঘুরে দাম দেখছেন। ফলে শেষ মুহূর্তের চড়া বেচাকেনার যে আশা ব্যবসায়ীরা করেছিলেন, তা যেন এক নিদারুণ হতাশায় রূপ নিয়েছে। দোকানগুলোতে বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন, আর পুরো বাজার জুড়ে বিরাজ করছে এক ধরনের খাঁ খাঁ নীরবতা।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য বছর এই সময়ে দম ফেলার ফুসরত না থাকলেও এবার গাউসিয়া মার্কেটের থ্রি-পিস ও শাড়ির ব্যবসায়ী আল-আমিন হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সকাল থেকে মাত্র দুটি বিক্রি করতে পেরেছি ড্রেস। পাইকারি বাজারে যে টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম তা তোলা তো দূরের কথা, দোকানের কর্মচারীদের বেতন আর বোনাস দেওয়াই এখন আমার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউমার্কেটের জুতা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর এই সময়ে ক্রেতা সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছিল, আর এবার ক্রেতার আশায় পথ চেয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।

– ছবি : সারাবাংলা

তবে ভিন্নচিত্র দেখা গেলো ফুটপাতের মার্কেটে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা কমের মধ্যে জামাকাপড় কিনছেন। এখানে ২০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে থ্রিপিস, ফতুয়া, টু-পিস বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও জুতা , ওড়না ও হিজাব বিক্রি হচ্ছে। আরও বিক্রি হচ্ছে এমিটেশনের দুল,চুড়ি ও গহণা।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কণ্ঠে অবশ্য শোনা গেল ভিন্ন সুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিহা সুলতানা তার মায়ের সাথে গাউসিয়া মার্কেটে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এবার কাপড়ের দাম অতিরিক্ত বেশি। যে পোশাক গত বছর ১৫০০ টাকায় কেনা গেছে, এবার সেটার দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাড়তি দামের কারণে এমনিতেই সবার হাত খালি, তার ওপর পোশাকের এমন আকাশছোঁয়া দামের কারণে তারা কেবল প্রয়োজনীয় দু-একটি জিনিস কিনেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী রাইহান উদ্দিনও একই সুরে বলেন যে, বোনাসের টাকা দিয়ে কোরবানী দিচ্ছি। এরপর সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাই নিজের জন্য কিছু না কিনে শুধু বাচ্চাদের জন্য সামান্য কিছু কিনতে নিউমার্কেটে এসেছেন।

– ছবি : সারাবাংলা

সার্বিক এই মন্দা পরিস্থিতি ও ব্যবসায়ীদের লোকসান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কেট সমিতির মালিকপক্ষ। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জানান, এবার কোরবানী ঈদে আসলে রোজার ঈদের তুলনায় বেচাবিক্রি কমই হয়। কারন সবাই গ্রামের বাড়িতে যায়। ঈদে তেমন কেনাকাটা করেনা। কোরবানী দেয়। তবুও যতটুকুই বেচাবিক্রি হয়, এবার সে তুলনায় কম। মানুষের সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদে।

সারাবাংলা/এফএন/এসআর