কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় একটি বন্য মা হাতির সন্ধান পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাটিতে পড়ে থাকা হাতিটিকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। আহত হাতিটিকে বাঁচাতে বনবিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বনবিভাগ জানিয়েছে, পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটিতে হাতিটির পা পিছলে যায়। এতে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে প্রাণীটি গুরুতর আহত হয়। আঘাত পাওয়ার পর থেকে সেটি আর দাঁড়াতে পারেনি।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া ও টেকনাফের দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই চিকিৎসক নিয়ে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছে এবং মা হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে হাতির সামনের পা ঠিক থাকলেও, পেছনের দিকে মুভ করতে পারছে না। চিকিৎসক ধারণা করছেন, হাতির মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার কারণে পেছনদিকটাতে নড়াচড়া করতে পারছে না। বর্তমানে হাতিটি ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং বনবিভাগের টিম সার্বক্ষণিক সেখানে অবস্থান করছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সেটি খুব সামান্য নড়াচড়া করতে পারছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটির পা ও পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাণীটিকে আবার বনে অবমুক্ত করা হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন হলে তাকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বর্ষণে পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় শুধু মানুষের নয়, বন্য প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি বেড়েছে। আহত মা হাতিটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন বনবিভাগের চিকিৎসা ও পরিচর্যার ওপরই প্রাণীটির সুস্থতা নির্ভর করছে।’