ঢাকা: ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন এটিএম সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যাংকের বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো বুথ সম্পূর্ণ বন্ধ, আবার কোথাও কোথাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে টাকা তোলার সীমা। ফলে টাকা তুলতে গিয়ে এমন ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ গ্রাহকরা।
সোমবার (২৫ মে) এবং মঙ্গলবার (২৬ মে ) সকালেও রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে এ ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক গ্রাহক এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে নিজেদের ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যাংকগুলো খোলার আগ পর্যন্ত বুথগুলোতে নগদ অর্থের এই সংকট কাটবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কায় ছিলেন গ্রাহকরা।
জানা যায়, রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার এলাকায় বিশেষ করে দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর অনেক এটিএম বুথে টাকা না থাকায় সেবা অচল হয়ে রয়েছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ভালো অবস্থানে থাকা কিছু ব্যাংকও নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর অঘোষিত সীমা আরোপ করেছে। আবার যেসব ব্যাংকের বুথ চালু রয়েছে, সেগুলোর কোনো কোনোটি থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেখানেও টাকা উত্তোলনে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে ছুটির এই সময়ে বুথ থেকে বুথে ঘুরেও প্রয়োজনীয় অর্থ না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ঈদের আগে এটিএম বুথে টাকা নেই—এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এটি সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা। কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও যদি মানুষ নিজের টাকা তুলতে না পারে, তাহলে এসব ব্যাংকের সেবা আসলে কার জন্য?’
আরেকজন লিখেছেন, ‘তিনটি বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারলাম না। এটিএম বুথে টাকা নেই।’
অভিযোগ শোনা যায়, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের বুথগুলো থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা তোলা যাচ্ছে না।
এছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের শাখা ও বুথ পর্যায়ের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ঈদ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল—ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং বুথগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে হবে। এছাড়া পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও এমএফএস সেবা সচল রাখা এবং গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন ও এসএমএস সতর্কবার্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।