ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক-কে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহীম খলিল-এর আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে, গত ১৬ মে তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুল হক-কে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আদালত ২৩ মে দিন ধার্য করেছিলেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হক-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
তবে গত ১৭ মে বাংলাদেশ হাইকোর্ট খায়রুল হক-কে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া নতুন করে গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ ওই আদেশ দেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। তখন তার আইনজীবীরা জানান, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই। তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
এছাড়া গত ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনর করা পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা সাতটি মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। এর মধ্যেই নতুন এ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজ এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে খোবাইব নামে এক তরুণ নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর মামলা করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।