যশোর: নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে যশোরে তিন দিনব্যাপী বই মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গনে এই বই মেলার উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে পাঠাগারমুখী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে বইমুখো করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তাই তিনি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আবু সাঈদ স্যারের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কিভাবে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকেই বইপড়ার আগ্রহ তৈরি করা যায় সেই পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।’
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ‘নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক পড়ে এই পৃথিবীর চ্যালেঞ্চ মোকাবেলা করা সম্ভব না। পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হলে খেলাধুলা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে হবে। বিভিন্ন ভাষার উপর, দেশ বিদেশের ইতিহাস সংস্কৃতির জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এই সকল কিছুর একমাত্র মাধ্যম হলো বই।’
দুই শতাব্দির প্রাচীন যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাচীন যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্যে সম্পর্কে জেনেছেন, দুর্লভ সংগ্রহ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এসব দুর্লভ বই দেখাতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বই পড়ার প্রতি নতুন প্রজন্মের ভিতরে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এই পাবলিক লাইব্রেরি উন্নয়নে সরকার ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী দুই শতাব্দীর প্রাচীন যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ডিজিটাল করার প্রতিশ্রুতি দেন। যাতে করে পাঠ্যপুস্তুকের সঙ্গে পাঠক ডিজিটাল মাধ্যমেও বই পড়তে পারে। বই পড়ার মধ্যে দিয়ে যে আনন্দ রয়েছে সেই আনন্দ যেন খুঁজে পান সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলুসহ অন্যান্যরা।
আয়োজকরা জানান, উদ্বোধনের পর প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বই প্রদর্শনী ও বিক্রয় চলবে। মেলায় কবিতা আবৃত্তি, বই পড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে। এদিকে, দীর্ঘদিন পর যশোরের এই বইমেলাকে ঘিরে যশোরের কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। তীব্র গরমেও প্রথম দিনেই পাঠক ও বই প্রেমী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী অতিথিদের নিয়ে বই মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী এই বই মেলা চলবে আগামী ২৪ মে পর্যন্ত।