Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের জেরে চবিতে ছাত্রদল-শিবিরের পালটাপালটি বিক্ষোভ

চবি করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৬

চবি: চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে আলাওল হল ঘুরে ২ নম্বর গেট এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় নেতাকর্মীরা ‘গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘গুপ্তদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিজ্ঞাপন

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। মিছিলটি জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে আলাওল হল হয়ে নিরাপত্তা দপ্তর অতিক্রম করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ছাত্রদলের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘বিচার চাই বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘গুপ্ত বলিস কাদেরকে, তুই ছিলি লন্ডনে’, ‘শিবিরের অপর নাম, আদর্শের সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে বক্তব্যে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ‘গুপ্ত শিবির’ হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন কর্মী জীবন দিয়েছে। আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না; করলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।’

চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, চোরের ১০ দিন আর গৃহস্থের এক দিন। ৫ আগস্টের পর আজ চোর ধরা খেয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ লেখা থাকলেও গুপ্তভাবে তারা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিক্ষার পরিবেশ যারা নষ্ট করতে চাইবে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের প্রতিহত করবে। আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, আর কোনো ছাড় হবে না।’

অন্যদিকে চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করলে সেটির ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এনে এই হামলা করা হয়েছে। আপনারা যেভাবেই হোক ক্ষমতায় এসেছেন, দেশের মানুষ আপনাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা হাসিনার পথ বেছে নেবেন না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে আসার সময় ‘গুপ্ত’ শব্দটি আমদানি করেছেন। তিনি এই শব্দ কোথায় পেয়েছেন? যখন তাকে দেশে আসতে বলা হতো, তখন বলা হতো ওপর মহলের নির্দেশ লাগবে—সেই প্রেসক্রিপশন থেকেই এই শব্দ এসেছে। যারা জুলাই আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে, ঘাম দিয়েছে, বন্ধু হারিয়েছে, ক্লাস ছেড়ে রাজপথে নেমেছে, তাদেরকে আপনি গুপ্ত বলছেন? তাহলে গত ১৫ বছর আপনি কোথায় ছিলেন?’

সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আবার যদি ক্যাম্পাসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। সংসদে দাঁড়িয়ে যা বলা হয়, জনগণ তা আর গ্রহণ করবে না। কেউ যদি ছাত্রশিবিরকে গুপ্ত বলে, তাহলে অতীতের নির্যাতন দেখুক—তারপর বলুক কারা গুপ্ত ছিল।’

ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুল্লাহ খালেদ বলেন, ‘লন্ডন থেকে একজন এসে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংসদে বসে আছে এবং তার সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। আমরা বলতে চাই, তাদের কখনো আওয়ামী লীগের মতো হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। আমরা আমাদের ভাইদের ওপর প্রতিটি আঘাতের বদলা নেব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর