ঢাকা: চীনা নাগরিককে কুপিয়ে ডাকাতির সময়ে ভুলে ফেলে যাওয়া মোবাইলের সূত্র ধরেই ডাকাত সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ১৪ এপ্রিল ইয়াং জি জিয়াং প্রকল্পে প্রায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রকল্পের ভিতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ঘড়ি ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওয়েন জিনহুয়া (৫৫) নামে একজন চীনা নাগরিককে ডাকাত দল ধারালো অস্ত্র যারা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ১৫ থেকে ১৬ জনের ডাকাত দল এই কর্মকান্ড ঘটিয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুলে একটি মোবাইল রেখে যায়। আর সেই সূত্র ধরেই ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করি। মোবাইল না পেলে সহজে হয়তো তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার পাঁচজন হলেন- আসুদ রানা (৪৩), নাছির পিয়াদা (৪০), হৃদয় মীর (২২), রোমান শেখ (৩৪), মো. মামুন (৩২)। এর মধ্যে তিনজনের নামে আগে থেকেই মামলা ছিল। আরও ৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হবে। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ৩টি বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি ঘড়ি, ২টি বিদেশি মোবাইল ফোন ও ৭ লাখ টাকার মধ্যে নগদ ১৫৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে নাহির পিয়াদার বিরুদ্ধে পিরোজপুর মঠবাড়ীয়া থানা ও চট্টগ্রাম বায়েজিত বোস্তামি থানায় ২টি মামলা রয়েছে, রোমান শেখ এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় ১টি ছিনতাই মামলা রয়েছে ও মো. মামুনের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে। ডাকাতির এ ঘটনায় ১৫ থেকে ১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতি মামলা করা হয়েছে।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, ডাকাত সদস্যরা অভাবের তাড়নায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের জানিয়েছে। কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা। এই ঘটনার সঙ্গে বাসার সিকিউরিটি গার্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখনও পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।