Saturday 18 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিকড়ের টানে শেকড়কে চেনা ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস’ আজ

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৮

সময়ের ধুলোবালিতে কত সাম্রাজ্য বিলীন হয়ে গেছে, কত দোর্দণ্ড প্রতাপশালী রাজার অট্টালিকা মাটিতে মিশেছে তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু কিছু পাথর, কিছু স্থাপত্য আর কিছু সংস্কৃতি যেন কালের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে অতন্দ্র প্রহরীর মতো। ভোরের নরম আলো যখন মিশরের পিরামিডের চূড়ায় পড়ে কিংবা গোধূলির আলো যখন আমাদের সুন্দরবনের লোনা জলে চিকচিক করে ওঠে, তখন মনে হয় সময় যেন সেখানে থমকে দাঁড়িয়েছে। এই যে প্রাচীনত্বের হাতছানি, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কোথা থেকে এসেছি সেই শেকড়কে আগলে রাখার অঙ্গীকার নিয়েই ফিরে আসে বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস। প্রতি বছরের ১৮ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে মানুষ একাত্ম হয় তাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া অমূল্য সম্পদগুলোকে ভালোবেসে রক্ষা করার সংকল্পে।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের আয়নায় শেকড়ের সন্ধান

ঐতিহ্য কেবল ইট-পাথরের কোনো দালান নয়, বরং এটি হলো মানব সভ্যতার বিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল। শত শত বছর আগে মানুষ কীভাবে চিন্তা করত, তাদের রুচি কেমন ছিল কিংবা তারা প্রকৃতিকে কীভাবে জয় করেছিল তার সব উত্তর লুকিয়ে থাকে এই সংরক্ষিত নিদর্শনগুলোর মাঝে। ইউনেস্কোর তালিকায় থাকা সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক স্থানগুলো একেকটি মুক্ত জানালা, যার মধ্য দিয়ে আমরা অতীতের সোনালী দিনগুলোকে দেখতে পাই। আমাদের দেশের ষাট গম্বুজ মসজিদ কিংবা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট নয়, এগুলো এই জনপদের আত্মপরিচয়। যখন আমরা এই সম্পদগুলোর সামনে দাঁড়াই, তখন আমরা শুধু দর্শক নই, বরং হাজার বছরের সেই ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠি। এই দিবসটি আমাদের সেই বোধকেই নতুন করে জাগিয়ে দেয় যাতে আমরা আমাদের পরিচয়কে অবহেলার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে না দিই।

সংরক্ষণের লড়াই ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

বর্তমান পৃথিবী প্রযুক্তিতে যতটা উন্নত হয়েছে, আমাদের ঐতিহ্যের ওপর হুমকির মাত্রা ঠিক ততটাই বেড়েছে। আধুনিক নগরায়ন, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো জলবায়ু পরিবর্তন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক উপকূলীয় প্রাচীন শহর বিলীন হওয়ার পথে, আবার বায়ুদূষণের কারণে তাজমহলের মতো শ্বেতশুভ্র স্থাপত্যের উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে আসছে। বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই অমূল্য নিদর্শনগুলো একবার হারিয়ে গেলে কোনো অর্থ বা প্রযুক্তি দিয়ে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই কেবল বছরে একদিন উদযাপন নয়, বরং প্রতিটি দিন এই সম্পদগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়েই সম্ভব এই জরাজীর্ণ ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করা।

ঐতিহ্যের সুরক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার

একটি জাতির গর্বের জায়গা হলো তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। যখন একটি প্রাচীন মন্দির বা প্রাকৃতিক অরণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের সম্মিলিত স্মৃতি। আজকের দিনটি আমাদের সেই দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেয় যা আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঋণী। আমাদের সন্তানদের জন্য আমরা কেবল আধুনিক অট্টালিকা রেখে যাব না, বরং তাদের হাতে তুলে দিতে হবে এমন এক পৃথিবী যেখানে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরব দেখে বড় হতে পারে। ঐতিহ্যের যত্ন নেওয়া মানেই হলো নিজের অস্তিত্বকে সম্মান করা। তাই আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি ছোট-বড় ঐতিহাসিক নিদর্শনকে আমরা আগলে রাখব পরম মমতায়, যাতে মহাকালের স্রোতেও আমাদের বীরত্বগাঁথাগুলো অম্লান থাকে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর