ঢাকা: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করায় একে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা এবং অবিলম্বে গণটিকাদান কর্মসূচি চালুর দাবি জানিয়েছে ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হলেও বাকিরা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত এবং তিন হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিপিপিএইচের নেতারা বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে প্রথমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। এমনকি টিকা নেওয়া ও ৯ মাসের কম বয়সি শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
তারা আরও বলেন, টিকা সংগ্রহে গাফিলতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরোধযোগ্য এ মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা জরুরি করণীয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সারাদেশে দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা, উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, প্রতিটি হাসপাতালে সংক্রামক রোগ কর্নার চালু করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া, টিকা নিয়ে গুজব মোকাবিলায় গণসচেতনতা বাড়ানো, শক্তিশালী রোগ নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনস্বাস্থ্যের জরুরি অপারেশন সেন্টার চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একইসঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার কথাও বলা হয়।
ডিপিপিএইচ নেতারা সতর্ক করে বলেন, হামের সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গ প্রকাশের আগেই অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। এতে নিউমোনিয়া, অন্ধত্ব, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সংগঠনটি দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ভ্যাকসিন উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়।
তারা বলেন, বর্তমান সংকট স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার একটি স্পষ্ট বার্তা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এজন্য সরকার, গণমাধ্যম, অভিভাবক এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।