Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে শ্রমিক-কর্মচারীরা, চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ | আপডেট: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৬

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নৌ পরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসের বাস্তবায়ন না দেখে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নেমেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে বন্দরে আবারও অচলাবস্থা শুরু হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে।

বন্দর এলাকায় দেখা গেছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের কেউ কেউ বিভিন্ন জেটির গেটে গেলেও তাদের সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। অবশ্য যারা জেটিতে প্রবেশের জন্য যাচ্ছেন, তাদের দ্রুততার সাথে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর বাইরে কাউকে জেটি গেইটের আশপাশে অবস্থান করতে দেওয়া হচ্ছে না। বন্দর এলাকাজুড়ে পুলিশসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বন্দরের অভ্যন্তরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামাসহ সব ধরনের অপারেশনাল কাজ কার্যত বন্ধ আছে। পণ্যবোঝাই ও কনটেইনারবাহী কোনো পরিবহন বন্দরে প্রবেশ কিংবা বের হতে দেখা যায়নি।

দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বানের পর চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের আজ (রোববার) সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠকে ডেকেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আন্দোলনকারী সংগঠনটির পক্ষ থেকে সেই আহ্বান প্রত্যাখান করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান সকাল সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

এ অচলাবস্থার মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও তারা আশপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ভূয়া ভূয়া, দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করে নৌ উপদেষ্টা বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি দল এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা-হয়রানি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাকি দুটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবেন বলে জানান।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবির বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেছিলেন, দাবিগুলো তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তবে চুক্তি ঠেকানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার কাজে কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।

এরপর সংগ্রাম পরিষদ ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে কাজে যোগ দেন। তবে এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল সংগঠনটি।

এ অবস্থায় গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগ্রাম পরিষদ। এতে পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা কর্মবিরতি ৪৮ ঘন্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। এজন্য আমরা আবারও রোববার ৮টা থেকে আগের কর্মসূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর