Thursday 21 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হলফনামা বিশ্লেষণ
নেই আগ্নেয়াস্ত্র, হাবিবের বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৮ | আপডেট: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব–এর হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তার আয়, সম্পদ ও মামলার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র। আগেও টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই রাজনীতিক এবারও একই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, পেশায় ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৪৮২ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৩ হাজার ৯২৭ টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত ঘরে তিনি কোনো অস্ত্রের মালিকানা নেই বলে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আয়-কর ও নগদ অর্থ

২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে হাবিবুল ইসলাম হাবিব ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট আয় ১৯,২৩,৪৮২ টাকা এবং এ যাবৎকালে তার সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ২০২ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ হিসেবে তার নামে ১২ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা এফডিআর রয়েছে।

যানবাহন, স্বর্ণ ও গৃহস্থালি সামগ্রী

যানবাহন খাতে (অধিগ্রহণকালীন মূল্য অনুযায়ী) ট্যাংক ও লরি মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা; স্ত্রীর নামে কোনো যানবাহন নেই। স্বর্ণালংকার হিসেবে তার কাছে রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণ (মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা) এবং স্ত্রীর কাছে ২০ ভরি স্বর্ণ (মূল্য ৫০ হাজার টাকা)।

ইলেকট্রনিক পণ্যের মধ্যে টিভি ও ফ্রিজসহ তার সম্পদের মূল্য ৫০ হাজার টাকা, আর স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকা। আসবাবপত্র হিসেবে তার নামে খাট ও সোফার মূল্য ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

এছাড়া ‘অন্যান্য’ খাতে স্ত্রীর কাছ থেকে দান হিসেবে ৩০ লাখ টাকা প্রাপ্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ

এ যাবৎকালে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে রয়েছে ২.১১ একর কৃষিজমি (মূল্য ১০ লাখ ৭ হাজার টাকা)। স্ত্রীর নামে পৈতৃক সূত্রে ২.৬৬ একর কৃষিজমি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা।

অকৃষি জমির ক্ষেত্রে তার নামে ৫২.৭৫ একর (মূল্য ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা) এবং স্ত্রীর নামে ১৩ শতক জমি (মূল্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) উল্লেখ করা হয়েছে।

ভবন সম্পদের তালিকায় দেখা যায়, ঢাকার বনানী এলাকায় তার নামে একটি ৬ তলা ভবন, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ধানমন্ডির সাগরিকা কনকর্ডে একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং–২৩২), যার মূল্য ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এছাড়া কলারোয়া মৌজায় তার একটি দ্বিতল পৈতৃক বাড়ি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

এ যাবৎকালে তার স্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ৩১ লাখ ১২ হাজার টাকা, আর স্ত্রীর নামে ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

মামলার তথ্য

হলফনামা অনুযায়ী, হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বিরুদ্ধে অতীতে মোট ১৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৮টি ফৌজদারি মামলায় তিনি বেকসুর খালাস, উচ্চ আদালত থেকে খালাস, মামলা প্রত্যাহার, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল অথবা অব্যাহতি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর