Thursday 06 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢাকায় মহাসমাবেশসহ ৪ বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩৬ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩৭

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে আমির।

ঢাকা: গ্যাস, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি, এলপিজির দাম প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস-সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির’ প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লংমার্চ দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হবে। আর ঢাকা মহাসমাবেশ হবে আগামী ১৪ নভেম্বর।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে হবে, রান্নার জন্য গ্যাস দিতে হবে এবং যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাবারের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।’

সম্প্রতি এলপিজির দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট দফতর ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকট তৈরি করে পরবর্তী ধাপে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘খুন, অপরাধ ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতেও তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন এবং নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িতদের আর বাংলাদেশে ফিরে এসে শাসন করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমির বলেন, ‘অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় লং মার্চে বাধা দেওয়া হলে তা দ্বিগুণ শক্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাবে।’

রংপুর অভিমুখে কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পথে বিভিন্ন স্থানে সভা করে জনগণের কথা শোনা হবে এবং তাদের কাছে আন্দোলনের বক্তব্য তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে পরবর্তী বড় আন্দোলনের জন্য দেশের জনগণকে প্রস্তুত করা হবে।’

সিলেট অভিমুখে সড়কপথের পরিবর্তে রেলপথে কর্মসূচি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেটের সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান। এর মধ্যে সড়কপথে শত শত গাড়ি চলাচল করলে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হবে। জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়েই রেলপথ বেছে নেওয়া হয়েছে।’

ঢাকার মহাসমাবেশে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকাবাসীকে আজ থেকেই অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।’

অবস্থান কর্মসূচি থেকে পরে সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সচিবালয় কোনো দলের সম্পত্তি নয়। এর প্রতিটি ইট, বালু, পাথর, রড ও সিমেন্ট দেশের জনগণের সম্পদ। সেখানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, মন্ত্রী-এমপি সবাইকে জনগণের কথা শুনতে হবে এবং জনগণের দাবি মানতে হবে।’

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর