Thursday 06 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘হাসিনাকে ভারতের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ আগস্ট ২০২৬ ১৪:২২

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান।

ঢাকা: শেখ হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতকে অবহিত করলেও কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রিজভী।

বিজ্ঞাপন

রিজভী বলেন, ‘আমরা মনে করি, শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও পরিকল্পিতভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় বিচার চলছে এবং আদালতের রায়ও রয়েছে।’ দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি ও আইনানুগ ব্যবস্থা থাকার পরও তাকে ফেরত না দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশকে আমরা বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি। আমরা সমমর্যাদা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। কিন্তু একজন পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সেই পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার আয়োজনকে ভারতের নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘যে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই আন্দোলনের দিনেই দিল্লিতে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ তার ভাষ্য, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রভাব বিস্তারের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।’

রিজভী বলেন, ‘হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীর রক্তের বিনিময়ে যে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, সেই ঘটনার জন্য যিনি দায়ী, তাকে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে দাবি করা একটি দেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া শহীদদের প্রতি অপমান।’

এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য প্রচেষ্টা’ আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

এ সময় ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর