ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকারের প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নবনিযুক্ত অতিরিক্ত সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবিসহ ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, তাহমিদা আহমদ এবং ইসি সচিব আখতার আহমদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।
বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে অযোগ্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এটি একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত, যা শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে বাধা না থাকলে স্থানীয় নির্বাচনে কেন বাধা থাকবে? স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।’
জামায়াতের এই আপত্তির মুখে ইসি বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, স্থানীয় নির্বাচনে পদে বহাল থেকে তারা ভোটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। তাই নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এসব দলীয় প্রশাসকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
সম্প্রতি ইসির সাবেক কর্মকর্তা সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ারও কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই কর্মকর্তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিএনপির একটি কমিটিতে কাজ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পদধারী ও নেতাকর্মীরা যাতে নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানায় দলটি। এ বিষয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ‘রাজনীতি করেন ব্যক্তিরা, আর নির্বাচন করাও রাজনীতির অংশ। তাই নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারীরা যেন ভোটে অংশ নিতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন জামায়াত নির্বাচন কমিশনের কাছে সাতটি দাবি জানিয়েছিল, যার সঙ্গে বুধবার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিলের দাবি যুক্ত হয়ে তা ৯ দফায় উন্নীত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন কার্য পরিচালন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ইসি বলেছিল, এ বছরের শেষে স্থানীয় নির্বাচন হবে, কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা একেক সময় একেক তারিখের কথা বলছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আদালতের রায়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসি গেজেট প্রকাশ করে ফেলেছে। এসব সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।’
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা জানান, স্পিকার ও ইসির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং দল থেকে বহিষ্কার করা জামায়াতের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। তবে সংসদ সদস্যপদের বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক এবং তা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার হওয়ায় এ বিষয়ে বুধবারের বৈঠকে কোনো কথা হয়নি।