Monday 22 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অডিও ভাইরাল / কত দিবা, দু’লাখ দেও— ব্যবসায়ীকে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা

শামীম সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুন ২০২৬ ২১:১৮

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী: এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঁদা দাবির একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও নাগরিক মহলে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

ভাইরাল হওয়া প্রায় ৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের অডিওতে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোলাম মোস্তফা মামুনের কথোপকথন শোনা যায়। ওই ব্যবসায়ী রাজশাহীতে মধু, ঘি ও আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একজন উদ্যোক্তা। কথোপকথনের শুরুতেই মামুন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে কিছু দিতে চাও-দাও।’ ব্যবসায়ী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে না ভাই, আমি বার বার যাওয়া আসা করতে পারব না, আপনি যা নিবেন ফাইনাল বলেন। আমি একবারে দিয়ে দিব।’ মামুন বলেন, ‘তোমাকে বার বার যাওয়া আসা করতে হবে কেন, এখন তো ঘরে বসেই দেয়া যায়।’ কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি ওই ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, অডিওটি গত ঈদুল আজহার সময়কার একটি ফোনালাপের অংশ। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই রাজশাহীর ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক প্রশ্ন তুলছেন, একজন রাজনৈতিক নেতা ও একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করা একটি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তির নয়, সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলো যখন নিজেদের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কোনো অডিও বা ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়গুলো আরও বেশি আলোচনায় চলে আসে।

অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রাজশাহীর সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, ‘যারা বাজারে অনিয়ম ও অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সারাবাংলাকে বলেন, ‘যে সংগঠন ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে, সেই সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হবে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।’

একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘অডিওর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তবে যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা মামুন সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভিডিওটি এডিট করা। পারিবারিক একটা বিষয়ে মীমাংসা নিয়ে কথা হচ্ছিল। কাটছাট করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

জেলা বিএনপি সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন জানিয়ে সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনলাম। তবে বিস্তারিত আমি অবগত নই। অডিওটি আমার নজরে আসেনি। তবে আমি সেটি চেয়ে পাঠিয়েছি। চাঁদাবাজির সত্যতা থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর