Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্পিকারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ বিরোধীদলীয় উপনেতার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ জুন ২০২৬ ২১:৪৮ | আপডেট: ৯ জুন ২০২৬ ২২:৪৮

ঢাকা: জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের বক্তব্যের ক্রম ও সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহেরের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ৬৮ বিধিতে আলোচনার সময় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অধিবেশনে পূর্বনির্ধারিত নামের তালিকায় আকস্মিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের উপনেতা এবং এক পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য বর্জনের ঘোষণা দেন। ঘটনার শুরুতেই সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের সময় বণ্টন নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করা হয় এবং জানানো হয় যে অর্থমন্ত্রী সবার শেষে বক্তব্য রেখে পুরো বিষয়টি সাম আপ করবেন।

বিজ্ঞাপন

এর পর স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে বিরোধী দলের উপনেতার নাম ঘোষণা করে তার জন্য সাত মিনিট সময় নির্ধারণ করেন এবং অসুস্থতার কারণে তাকে বসে বলার অনুমতি দেন। কিন্তু মাইক পেয়েই নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধীদলের উপনেতা বলেন, স্পিকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়ার পরে সিট থেকে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে ডিজাইন পরিবর্তন করা খুবই অসম্ভব একটা বিষয় এবং এর প্রতিবাদে তিনি আজকে কোনো বক্তব্য রাখবেন না।

বিরোধী দলের উপনেতার এমন বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদীয় রীতিনীতি ব্যাখ্যা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং বলেন যে, সাধারণত সরকারি বা বিরোধী দলের চিফ হুইপ বক্তাদের নাম ওপরে-নিচে করতে পারেন। স্পিকার বিরোধী পক্ষকে তাদের নির্ধারিত ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানালে পুনরায় মাইক পেয়ে বিরোধীদলের উপনেতা স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘এখানে একটি অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং স্পিকার সেটি অনুমতি দিয়ে নিজের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।’

বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি ভারতের পার্লামেন্টের একটি উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধীর আনা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংসদের মানদণ্ড ও স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। একজনের নাম ঘোষণার পরে সেটি পরিবর্তন করে বিরোধী দলের বক্তাকে দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিরোধী দলের উপনেতার এই গুরুতর অভিযোগের জবাবে স্পিকার অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সংসদীয় বিধি মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘সংসদের বক্তাদের ক্রম নির্ধারণ করার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব স্পিকারের আছে এবং এখানে তেমন কোনো খারাপ পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।’

স্পিকার ছোটখাটো কার্যপ্রণালীগত বিতর্ক এড়িয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে দেশের চলমান ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত মূল আলোচনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংসদকে আহ্বান জানান।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর