রংপুর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তার পানির বিনিময়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তার দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দিনভর নানা কর্মসূচিতে মিলিত হন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে উঠে আসে তিস্তা-পদ্মা প্রকল্পের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ধর্মীয় পরিচয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।
সেতুটি নির্মাণকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা পদ্মা ব্যারেজের এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে, এ বিষয়ে দলের অবস্থান একদম পরিষ্কার।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘এই বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সাথে “একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গসহ দুনিয়ার যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ে অপকর্ম হবে, আমরা তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার অধিকার দুনিয়ার কোনো দেশের সংবিধানও দেয়নি।’
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ এক সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর বার্তাও দেন। রংপুর নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে আমির সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আপনারা সাদা কাপড়, দাগ লাগলে খবর আছে কিন্তু।”
তিনি উল্লেখ করেন, এখন জামায়াতকে অনেকে ‘ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে দেখছে। ফলে দুটি সার্চ লাইট দলের ওপর এখন তাক করে আছে আল্লাহ তায়ালা ও জনগণের ‘সার্চ লাইট’। শরীরের একটি লোমকুপও সার্চ লাইটের বাইরে থাকবে না, তাই আচার-আচরণে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন মর্মে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, “সরকারি দল এটাকে অপমান এবং অগ্রাহ্য করেছে।”
তিনি বলেন, “গণভোটের রায় এই বাংলার জমিনে একদিন ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে।” তিনি দাবি করেন, তারা দেশবাসীর মুক্তি ও একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চান।