ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এবং নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গেই প্রকৃত বন্ধুত্ব হতে পারে না। তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করে কেউ যদি বন্ধুত্বের কথা বলে, তবে সেই বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। এই কাঁটাতার একদিন সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণই উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে।
আজ মঙ্গলবার (১২মে) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত “শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। যদি সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের জনগণই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেবে। একইসাথে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি জানান, বাংলাদেশকে কোনো দেশের করদ রাজ্য হিসেবে দেখতে চায় না এ দেশের মানুষ।
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের গণহত্যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ক্ষত তৈরি করেছে। সেই সময় এই অন্যায়ের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণহত্যা হয়তো দেখতে হতো না।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার শাপলা চত্বরে নিরস্ত্র ও নিরাপরাধ মানুষের ওপর যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ। অথচ সেই হত্যাকাণ্ডকে ‘হেফাজতের তাণ্ডব’ হিসেবে প্রচার করে আলেম-ওলামাদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বক্তব্যে তিনি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপির ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আলেমদের ওপর যখন আক্রমণ হচ্ছিল, তখন বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়াতে এবং সঠিক রাজনৈতিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
তৎকালীন গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সে সময় অনেক সংবাদমাধ্যম ভিকটিমদেরই অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করেছিল, যার নথিপত্র এখনো সংরক্ষিত আছে।
মাদরাসা ছাত্রদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রদের ঢালাওভাবে জঙ্গি হিসেবে দেখার রাজনীতি আর চলবে না। এ দেশের প্রতিটি মুক্তির লড়াইয়ে আলেম-ওলামাদের অবদান রয়েছে এবং সেই অবদানকে জাতীয় ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত সব হত্যাকাণ্ড, গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অতীতে ঘটে যাওয়া সকল অন্যায়ের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।