ঢাকা: এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান সারোয়ার তুষার বলেছেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। তাই এ ঘটনার বিচার হতে হবে। সেই সঙ্গে এই ঘটনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই ঘটনাটি আমাদের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মেরুকরণের মধ্যে এখনো অত্যন্ত তাজা হয়ে আছে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র যেন আর কখনো নিজের নাগরিককে এভাবে গুলি করে মারতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই আজ বিচারের দাবি তোলা হচ্ছে।
তুষার বলেন, শাপলা চত্বরের এই ঘটনাকে কেবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দাবি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক আইনে একে ‘ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায়। যখন কোনো রাষ্ট্র নির্দিষ্ট তকমা দিয়ে নিজ দেশের জনগণের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালায়, তখন তা ফৌজদারি অপরাধের চেয়েও গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি এবং একে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহিদের স্বীকৃতি দিতে হবে।
তুষার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিচ্ছিন্ন চেষ্টা দিয়ে হবে না, বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিচার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনোভাবেই ইসলাম বিদ্বেষ বরদাশত করা হবে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ঘৃণা ছড়ানো বা হেট স্পিচ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের রাজনৈতিক কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের উত্তেজনার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।