Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অবিলম্বে গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে: জামায়াত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৫

ঢাকা: অবিলম্বে গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর মনিটরিং এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে এ দাবি জানিয়ে কতগুলো প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যালোচনা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা আমির সম্মেলন’ সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহ গ্রহণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-

  • অবিলম্বে গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ প্রেক্ষিতে ‘জেলা আমির সম্মেলন’ জোরালোভাবে প্রস্তাব করছে যে, অবিলম্বে একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে, যাতে প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি জনগণের কাছে দৃশ্যমান হয়।
  • জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর মনিটরিং এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো পর্যায়ে শিথিলতা বা গাফিলতি না থাকে।
  • সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য বজায় রেখে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

সম্মেলনে গৃহীত অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- জ্বালানি সংকট নিরসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ। রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয়করণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের জীবনযাত্রার মান রক্ষা করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজার সিন্ডিকেট, মজুদদারি ও তদারকির দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

এ অবস্থায় সম্মেলন প্রস্তাব করছে-

  • বাজার সিন্ডিকেট, কারসাজি ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
  • নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদারকি জোরদার করতে হবে।

জামায়াত থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার জননিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে।

এছাড়াও সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহের মধ্যে রয়েছে-

  • জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেওয়া।
  • রাষ্ট্রের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের বিকল্প নেই। এজন্য-স্থানীয় পর্যায়ের সকল স্তরে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।
  • সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সরকার দলীয় নেতাদের অপসারণ করতে হবে।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। মুসলিম দেশসমূহ পারস্পরিক বিভেদ ও দ্বন্দ্ব পরিহার করে কার্যকর ঐক্য ও সহযোগিতা গড়ে তুলবে। সংঘাত নিরসনে সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করতে হবে।

জুবায়ের আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, উপরোক্ত প্রস্তাবসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর