Saturday 06 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বান্দরবানে এলজিইডির সেট ভবন: কৃষকের পণ্য বিক্রি হবে ছাউনির নিচে

মো. ইসহাক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ জুন ২০২৬ ০০:৪৬ | আপডেট: ৭ জুন ২০২৬ ০০:৪৭

বান্দরবান: জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এতদিন খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পণ্য বিক্রি করতেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সেই কষ্ট লাঘবে আধুনিক বাজার সেট ভবন নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এসব বাজার ভবন পাহাড়ের কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া বাজার, আলীকদম উপজেলার রেফারপাড়া বাজার এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী বাজারে আধুনিক মানের তিনটি দ্বিতল বাজার ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব ভবন নির্মাণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক নকশায় নির্মিত প্রতিটি বাজার ভবনে ব্যবসায়ীদের জন্য সুপরিকল্পিত দোকানঘর, ক্রেতাদের চলাচলের সুবিধাজনক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা রাখা হয়েছে। বাজারগুলো চালু হলে স্থানীয় কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ এলাকায় উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল, কৃষিপণ্য, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিরাপদ পরিবেশে বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি পাহাড়ি নারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লামা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতেই এসব বাজার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বাজারগুলো চালু হলে স্থানীয় নারী-পুরুষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।’

বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এসব আধুনিক বাজার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারগুলো পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও নতুন বাজার ভবন নির্মাণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গজালিয়া এলাকার এক পাহাড়ি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে খোলা জায়গায় কষ্ট করে পণ্য বিক্রি করতে হতো। বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন আধুনিক বাজার ভবন হওয়ায় আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারব। এতে আয় বাড়বে এবং পরিবারকে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে পারব।’

স্থানীয়দের মতে, এলজিইডির এই উদ্যোগ শুধু বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, পাহাড়ি জনপদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। নতুন বাজারগুলো চালু হলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রিতে সুবিধা বাড়বে, পাশাপাশি পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।