ঢাকা: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এবার খাতা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ ও পাসের হার বাড়িয়ে দেখানোর যে সংস্কৃতি ছিল, সরকার তা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছে। শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়াশোনা করেছে, সেভাবেই তাদের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে।’ তাই ফলাফল ভালো বা খারাপ—এ নিয়ে বিতর্ক না করে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এটি জীবনের শেষ সুযোগ নয়। সরকার সব শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে এবং ভবিষ্যতে সব বাধা পেরিয়ে সফল হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।’
তিনি জানান, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সিসিটিভি ও বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম নজরদারি করা হয়েছে এবং অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়া, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে রাষ্ট্রকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষাখাতও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন একাডেমিক কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেই সব পরিবর্তন একসঙ্গে করা সম্ভব না হলেও নতুন কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সমন্বয় এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেককে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে। কখনো থেমে যাওয়া যাবে না। জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’