Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কর নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৪

সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় ব্যাংক থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ায় দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এই ঋণ ও দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরকার প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে করের আওতা বাড়ানো বা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?’

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঋণের এই বিশাল অংককে ‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ব্যাংক ঋণের এই অংক মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায়ের ধারাবাহিকতা বা ‘ক্যারিওভার’। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র দুই মাস হলো। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের ঋণের দায়কে বর্তমান সরকারের কর্মফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।”

অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মূল অর্থনৈতিক নীতিই হলো স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ‘এর প্রতিফলন আগামী বাজেট থেকেই দেশের মানুষ দেখতে পাবেন।’

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে এই অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে এসেছিল। এটি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে কাজ করছে।’

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বর্তমান বৈদেশিক ঋণের সঠিক পরিমাণও জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৭ কোটি ২০ লাখ (৭৮,০৬৭.২০) মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকার এই ঋণের বোঝা কমিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর