Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুপ্রিম কোর্টের রায় / জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বহাল, ট্রাম্পের আদেশ খারিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ জুন ২০২৬ ২৩:৪১ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ২৩:৫১

যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিক হিসেবে গণ্য হওয়ার নীতি পরিবর্তনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টা বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের নীতিকে বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) ট্রাম্পের এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ওই আদেশে মা-বাবা অবৈধ বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার সময় জন্ম নেওয়া শিশুকে দেশটির নাগরিকত্ব প্রদান না করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

আজ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্পের আদেশের বিপক্ষে ৬ জন এবং পক্ষে ৩ জন বিচারপতি ভোট দেন। এতে দেশটির ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সবার নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে নিম্ন আদালতও ট্রাম্পের নাগরিকত্ব প্রদানের নীতিতে পরিবর্তন আনার পদক্ষেপকে আটকে দিয়েছিল। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের নীতি বহাল রাখতে সম্মত হন।

জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে অবস্থানকারী মা-বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরা ‘এখতিয়ার সাপেক্ষে’ এবং সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারা অনুসারে জন্মসূত্রে নাগরিক বলে গণ্য হবে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আমাদের দেশে নাগরিকত্বের অধিকার, অধিকার পাওয়ার অধিকার, আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অবাধে অংশগ্রহণের অধিকার ছিল ও আছে। সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা সেই প্রতিশ্রুতি এদেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক স্বাধীন ব্যক্তির জন্য প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলি।

২৬ পৃষ্ঠার রায়ে জন রবার্টস আরও বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা এবং সুপ্রিম কোর্টের ভিন্নমতের বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের আইনের পুনঃব্যাখ্যায় পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি বলেন, সমস্যা হলো-এই চরম সংশোধনবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সপক্ষে প্রমাণ খুবই কম।

রবার্টসের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন তার সহকর্মী রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও ব্রেট কাভানা। তাদের পক্ষে রয়েছেন আদালতের উদারপন্থি বিচারপতি সোনিয়া সোতোমায়র, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ও এলেনা কাগন।

এ রায়ের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে, যা আমাদের দেশের জন্য খুবই খারাপ।’

তার বক্তব্যে আদালতের এই রায় সত্ত্বেও কংগ্রেস আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে পারবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সহজেই কংগ্রেসে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এটি পূরণ করতে পারি, প্রেসিডেন্টের সমর্থন নিয়ে, যা এখন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ ও জটিল কোনো সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই! কংগ্রেসের উচিত আজই কাজ শুরু করা, যাতে আমাদের দেশের জন্য ব্যয়বহুল ও অন্যায্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অবসান ঘটানো যায়। তারা আমার পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন পাবে!’

তবে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এমনটা করার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকার সপক্ষে খুব কমই প্রমাণ রয়েছে।