ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে সোমবার (৮ জুন) ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং অন্তত একজন নিহত হন।
বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অফ ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে,ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার (৮ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল)।
এটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে আঘাত হানে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৭.৮ এবং গভীরতা ৫৫.২ কিলোমিটার (৩৪ মাইল)।
ফিলিপাইন এবং প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থাগুলো সুনামির সতর্কতা জারি করেছে। তবে তাৎক্ষণিক দুই দেশের কোনোটিতেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জেনারেল সান্তোস সিটি পুলিশের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ড্যাগন এএফপিকে বলেন, ‘অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু আমি এখন সেগুলোর নাম বলতে পারছি না, কারণ আমরা উদ্ধারকাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে এবং লোকজনকে উঁচু স্থানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু উপকূলে ১ মিটার (৩ ফুট) পর্যন্ত ঢেউয়ের সম্ভাবনা ছিল।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউটের প্রধান তেরেসিতো বাকোলকল উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা জনগণকে উঁচু স্থানে বা আরও ভেতরের দিকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’
তাইওয়ান, জাপান, গুয়াম, পাপুয়া নিউ গিনি এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বেশ কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র ও ভূখণ্ডে ছোট আকারের সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা আছে।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি এবং উত্তর মালুকু প্রদেশের বাসিন্দারা ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ ফিলিপাইন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়। ‘রিং অফ ফায়ার’ হলো মহাসাগরকে ঘিরে থাকা ভূকম্পীয় ফাটলের একটি বৃত্তচাপ। এছাড়াও প্রতি বছর এই দ্বীপপুঞ্জটি প্রায় ২০টি টাইফুন ও ক্রান্তীয় ঝড়ের কবলে পড়ে।