ঢাকা: আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরবেলা একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিট নাগাদ এই ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ মৃদু কম্পন টের পেয়েছেন।
আকস্মিক এই ভূমিকম্পে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির মূল উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা। বিশেষ করে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকা এবং ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলটি এর কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা ও গভীরতা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে। আর্থকোয়েক ট্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ দশমিক ৬ কিলোমিটার।
একইসঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে মণিপুরের কামজং এলাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২ কিলোমিটার। সাধারণত ৫ থেকে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা আমাদের সতর্কবার্তা হিসেবেই কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।