ঢাকা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধন আরও শক্তিশালী করব।
শনিবার (৬ জুন) এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা সফর শেষে এক বার্তায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আমাদের এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের অভ্যর্থনা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমরা বিস্তারিত বৈঠক করি। আমাদের পুরো সফর জুড়ে আমরা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এক নতুন যুগে পদার্পণকারী বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এবং আমাদের বাংলাদেশী ভাই-বোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি।
আমরা দেখেছি যে, আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে উঠছে। আগামী সময়ে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও উন্নত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।
উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আমি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে, বিশেষ করে আমার শ্রদ্ধেয় ভাই ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই উপলক্ষ্যে আমি আমার শ্রদ্ধেয় প্রতিপক্ষকে আবারও অভিনন্দন জানাই, যিনি সম্প্রতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পালন করবেন।
হাকান ফিদান বলেন, আমাদের সফরের অংশ হিসেবে আমরা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করার সুযোগও পেয়েছি। ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরাট দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করাই আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য।
কক্সবাজারে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আমরা তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মানবতার সেবায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মরত আমাদের সকল কর্মীর নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।
উল্লেখ্য, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। সফর শেষে শনিবার ঢাকা ছাড়ছেন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী।