জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দেশগুলোর পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এ প্রস্তাব প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর (ইউএসটিআর)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারার তদন্ত শেষে এ সুপারিশ করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার দাবি করেছেন, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে এ দেশগুলোর ব্যর্থতা মার্কিন শ্রমবাজার ও ব্যবসার জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৫টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে প্রস্তাবিত শুল্ক সবধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। জ্বালানি, বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ), কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমান যন্ত্রাংশকে এ শুল্কের বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইউএসটিআর একইসঙ্গে একটি পৃথক টেক্সটাইল ব্যবস্থারও প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সুবিধার পরিমাণ ও শর্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ইউএসটিআর জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই এ বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। জনমত ও শুনানির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।