মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের এ সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ ছিল, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তবে প্রণালিটি পুনরায় চালু হওয়ার ঘোষণায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছাড়তে শুরু করেছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মার্কিন গণমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের নিচে। কিন্তু মার্চ মাসের শুরুতে সংঘাতের জেরে এই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাসের শেষের দিকে তা রেকর্ড ১১৯ ডলারে পৌঁছায়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর সমুদ্রপথটি খুলে দেওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়ায় জ্বালানি সংকট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা। একই সঙ্গে তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।