মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আগামী সপ্তাহে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ‘নীতিগত সম্মতিতে’ পৌঁছেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ (এপি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ফরচুন।
তবে একদিকে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে যুদ্ধের হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
ইরানের জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ডের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে না নেয়, তবে ইরান পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রফতানি ও বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ভূমিকা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। মধ্যস্থতাকারীরা গত সপ্তাহের ব্যর্থ হওয়া সরাসরি আলোচনাকে পুনরায় সচল করতে তিনটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন; ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সাত সপ্তাহে গড়ানো এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন, লেবাননে ২ হাজার ১০০ জন, ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।