Wednesday 13 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিল্প খাত বাঁচাতে গভর্নরের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ মে ২০২৬ ০৯:১৮

সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ব্যবসায়ী নেতা ও বিসিআই সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ।

ঢাকা: উচ্চ সুদহার, গ্যাস সংকট, ডলারের চাপ ও কমে যাওয়া বাজার চাহিদার কারণে দেশের উৎপাদন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নতুন করে বন্ধ শিল্পকারখানায় অর্থায়নের বদলে বর্তমানে চালু থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ব্যবসায়ী নেতা ও বিসিআই সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ।

তিনি বলেন, শিল্প খাত সচল রাখতে কার্যকর মূলধন সহায়তা, ঋণের সুদহার কমানো, পেনাল সুদ হ্রাস এবং বিদেশি রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসাইন ও জসীম উদ্দীন, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, কোভিড–পরবর্তী সময় থেকেই শিল্প খাতে কার্যকর মূলধনের সংকট তৈরি হয়েছে। পরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, সুদহার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে উৎপাদন খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকারও মনে করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাত টিকিয়ে রাখা জরুরি। এ কারণে বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে বিভিন্ন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা এলসি সীমা–সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর দাবি জানান। তাদের প্রস্তাব, যেসব এলসি সীমা অতিক্রম করেছে, সেগুলো আলাদাভাবে ব্লক রেখে মূল সীমা সচল রাখলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে। একই সঙ্গে কম সুদে অর্থায়নের জন্য বিদেশি তহবিল ও রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়।

সুদহার প্রসঙ্গে পারভেজ বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হলেও অতিরিক্ত স্প্রেড যোগ করে ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে নেওয়া হচ্ছে। এই স্প্রেড কমালে শিল্প খাত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

ঋণখেলাপির পর অতিরিক্ত পেনাল সুদ আরোপেরও সমালোচনা করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এতে শিল্পকারখানার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সিআইবি রিপোর্টে ‘গ্রুপ কনসেপ্ট’ নিয়েও আপত্তি জানান তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একই পরিচালক থাকার কারণে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে একই গ্রুপ হিসেবে দেখানো হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানান তাঁরা।

এমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চালু এবং স্বল্প সুদে ঋণসুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।

পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে শুনেছে। গভর্নর জানিয়েছেন, কার্যকর মূলধন, বিদেশি রিফাইন্যান্সিং ও পেনাল সুদসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ চলছে এবং শিগ্‌গিরই কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সেটি আবার সচল করা অত্যন্ত কঠিন। তাই বর্তমানে চালু থাকা শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।

সারাবাংলা/এসএ