ঢাকা: বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) চীনের শীর্ষ তিনটি বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতা স্মারক সই করেছে।
শনিবার(১৮ এপ্রিল) চীনের গুয়াংডং প্রদেশে এই চুক্তি সই হয়।
চীনের যে তিনটি সংগঠনের সঙ্গে এ সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো হলো—গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স, চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রডাক্টস এবং গুয়াংজু চেম্বার অব কমার্স ফর আউটবাউন্ড বিজনেস। ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট চীনা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
একই দিনে চীন সফররত ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল চায়না ফরেন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ারের ‘ট্রেড ব্রিজ-বাংলাদেশ ম্যাচমেকিং’ ইভেন্টে অংশ নেয়। এতে প্রায় ২৭০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিটুবি (B2B) বৈঠকে অংশ নিয়ে বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান করেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানের আলোচনায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, ‘চীন বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের আমদানির বড় অংশই দেশটি থেকে আসে। গত অর্থবছরে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’
তিনি জানান, বাংলাদেশে পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ চীন, যেখানে এরই মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোটিভ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাক্টর এবং উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ, ফিনটেক, এগ্রি-টেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল ও সাপ্লাই চেইনে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’
চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এর পরিচালক কিউ বলেন, ‘নানশা অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২০২৫ সালের আঞ্চলিক জিডিপি ২৪০ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।’ অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ ও বায়োমেডিসিন খাতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স’র সভাপতি উ শাওওয়েই বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’
চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রডাক্টস-এর সহ-সভাপতি শি ইয়ংহং বলেন, ‘১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ার বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের চীনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং উভয় দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি হবে।