ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। বিভাগটির বর্তমান সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন সভাপতি হিসেবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিভাগটিতে একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা নিজ বিভাগ থেকেই সভাপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিভাগটির নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে সকাল ৯টা থেকে ব্যবসায় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী— একটি বিভাগে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে রোটেশন পদ্ধতিতে নিয়োগ হবে। বিভাগে সভাপতি হওয়ার যোগ্য কোন শিক্ষক (নূন্যতম সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত) না থাকলে বর্তমানে কর্মরত সভাপতিকে পুনরায় পুনঃমেয়াদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে বর্তমান সভাপতি অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি হিসেবে নিয়োগে সম্মত না হলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনকে উক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী ‘সিনিয়র’ বলতে পদবী বা পদমর্যাদায় সিনিয়র বুঝাবে, বয়স বা চাকুরিকাল এ সিনিয়র নয়। যখন দুই বা ততোধিক শিক্ষক একই পদমর্যাদায় থাকবেন তখন উক্ত পদমর্যাদায় তাঁদের চাকুরিকাল অনুযায়ী সিনিয়রিটি নির্ধারণ করা হবে। একই পদে চাকুরীকাল যদি সমান হয় তবে তাদের বর্তমান পদে পদোন্নতি অথবা নিয়োগের সময় যার নাম ক্রমানুযায়ী পূর্বে লেখা হয়েছে, তিনি সিনিয়র বলে গণ্য হবেন।
এদিকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী— মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। তারা সকলেই সহকারী অধ্যাপক। এর মাঝে একজন শিক্ষক পূর্বে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্য আরেকজন শিক্ষকের সভাপতির মেয়াদ গতকাল (১৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বিভাগটির বাকী তিনজন শিক্ষকই সভাপতি হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত।
তবে এই নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভাগটির নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে। এছাড়া তিনি মার্কেটিং বিভাগেরও শিক্ষক নন। ফলে বিভাগটিতে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়ায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তীব্র তৈরি হয়েছে।
বিভাগটির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, আমাদের বিভাগটি অল্প শিক্ষক দিয়েই সেশনজটবিহীন সুন্দরভাবে এতোদিন চলে আসছে। বিভাগে সভাপতি হওয়ার মতো সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অনুষদের ডিনকে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আমরা বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি হলে সেশনজট তৈরি হতে পারে, তারা বিভাগের প্রতি যত্নশীল থাকে না। আমরা চাই আমাদের বিভাগের শিক্ষকদেরই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
এই বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী বিভাগের পরবর্তী সিনিয়রকেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি বলতে পারবো না। উপাচার্য যেভাবে আদেশ দিয়েছেন আমি সেভাবেই চিঠি সই করেছি।’
এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানকে সোমবার বিকেল থেকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।