Friday 07 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে সহপাঠীদের ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠানোর অভিযোগে

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪০ | আপডেট: ৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৫

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে তাদের অনুমতি ছাড়া তার প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তুবাউল জান্নাত ঐশী। তার বাড়ি যশোর জেলায়।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও রুমমেটদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তি কিছু ছবি ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান। এরপর হলটিতে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সমর্থনে কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, ‘যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।’ এ সময় তিনি পরদিন প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, একাধিক সূত্রের দাবি, আবিদ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময়ই তার কাছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ওই ব্যক্তি কিছু ছবি হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীর কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর