Friday 07 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হাসিনাকে ফেরানোর গোপন তৎপরতার অভিযোগে বেরোবিতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:২৭

রংপুর: দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধঘোষিত ফ্যাসিবাদী সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন—এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গঠন করা হয়েছে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। পাঁচ সদস্যের কমিটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন শিক্ষক এই গোপন অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত—তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান।

কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার (লিগ্যাল) মোছাঃ রেহেনা আক্তার মনি।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই শিক্ষক ও সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৭২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া ছুটি ছাড়াই দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।

একই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারেন না। সেইসঙ্গে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর