আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। দেশটির সুপ্রিম কোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার পর নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প।
সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ দুটি প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাহী আদেশে সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তাই আমরা নতুন করে কিছু সমন্বয় করছি।’
বৃহস্পতিবার সই করা আদেশ দুটির একটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিং করা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় আদেশটি তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’বা সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে।
ওভাল অফিস থেকে নির্বাহী আদেশগুলো ঘোষণা করার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে লাখ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে।
তার পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাখ্যান করায় সেটার সমালোচনা করে ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বহু বছর আগেই হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমরা এখন ১৫০ বছরের পুরোনো নীতিটি বাতিল করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
প্রথম নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘আমার প্রশাসন সেইসব অশুভ বিদেশি শক্তির সৃষ্টি করা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিয়েছে, যারা আমাদের জাতির উদারতার সুযোগ নিয়ে আমেরিকান নাগরিকদের প্রতারিত করার চেষ্টা করে।’
এই আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এমন শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিষিদ্ধ করবে, যাদের বাবা-মা উভয়ের কেও নাগরিক নন। এবং যাদের মধ্যে একজন কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য, বিদেশি সরকারের কর্মচারী, প্রতারণামূলক উপায়ে নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টা করেছেন, অথবা এমন মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাস করছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না।
যেমন পুয়ের্তো রিকোর মতো মার্কিন ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ফেডারেল আইনে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।
ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের সদস্যরা বারবার ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এবং রুশ ও চীনা শত্রুদের বিরুদ্ধে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের অভিযোগও করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘বহু বছর ধরেই মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছে। অনেকেই পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তারা বলেন ডিজনিল্যান্ড বা কোনো জাতীয় উদ্যান দেখতে এসেছেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।’
তার দাবি, এভাবে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক সন্তানের মাধ্যমে পরিবার পরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, এমনকি ভবিষ্যতে ভোটাধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ভোগের সুযোগ পায়।
এর আগে, ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়ে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব লাভকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের আওতাধীন সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।
দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিরোধিতা করে আসছেন। তার দাবি, ১৪তম সংশোধনী মূলত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্যই প্রণীত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি গৃহযুদ্ধের ঠিক পরপরই করা হয়েছিল। এটি ছিল দাসদের সন্তানদের জন্য।’