Monday 18 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইবির বাসে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ, আহত ৬

ইবি করেসপন্ডেন্ট
১৮ মে ২০২৬ ০৯:২৩

শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির দৃশ্য।

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাসে কথা কাটাকাটির জেরে সিনিয়র ছাত্র জুনিয়রকে মারধর করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

রোববার (১৭ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহগামী ‘মধুমতি’ বাসে এ ঘটনা ঘটে।

পরে এরই জের ধরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বায়োটেকনোলজি ও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় জড়িতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাইমুন আহাম্মেদ হৃদয়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জিহাদ ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অন্তর বিশ্বাস।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে ঝিনাইদহগামী একটি বাসে অন্তর বিশ্বাসসহ কয়েকজন সহপাঠী যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসের ভেতরে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৮–৯ জন শিক্ষার্থী উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা ও গান-বাজনা করছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে অন্তরের পাশের এক শিক্ষার্থী তাদের হইচই থামাতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিহাদ অন্তর বিশ্বাসের গলা চেপে ধরেন। পরে অন্তর বিশ্বাস হৃদয়ের গায়ে ধাক্কা দিলে হৃদয় তাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকেন।

পরবর্তীতে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা হৃদয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। এরপর লোকপ্রশাসন বিভাগের তামিমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে পালটা মারধর করেন।

এদিকে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দুই পক্ষের মাঝে পড়ে আহত হন। তাকে রক্ষা করতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে লোকপ্রশাসন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের জানালা ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ৭–৮ জন শিক্ষার্থী মিলে অন্তর বিশ্বাসকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় জিহাদ তার গলা চেপে ধরেন। পরে তারা প্রধান ফটকে গিয়ে নিজেদের সহপাঠীদের রক্ষা করতে গেলে তামিম ও জিহাদের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ইইই বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীও তাদের ওপর হামলা করেন। তবে তাদেরকে তারা চেনেন না। এ ঘটনায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের নাফিজ আনাম, সাগর গোঁড়ামি, আবির ও মুমিন মারধরের শিকার ও আহত হন। এ সময় তারা আরও বলেন, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের হুমকি দিয়ে বলেছেনন, ‘তোরা চিনিস আমরা কে? ভিসি কোন বিভাগের জানিস? ভিসি আমার চাচা, তুই চিনিস, আমি কে?’

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে ঘটনাটি একাধিকবার জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না এবং সেখানে কী ঘটেছে তা আমরা জানি না।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আলোচনায় বসছি। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে উপস্থিত ছিলেন না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর