Tuesday 07 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জবিতে পুলিশের লাঠিচার্জে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী আহত

জবি করেসপন্ডেন্ট
৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:১৩ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:১৪

ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ।

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ এবং পুলিশের লাঠিচার্জে একাধিক শিক্ষার্থী ও একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

সোমবার দিবাগত মধৗরাতে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম রাহাত বাসার পানির লাইন মেরামতের জন্য বাড়িওয়ালাকে ৫০০ টাকা দেন। কাজ শেষ হওয়ার পর মেকানিক মাইকেল পুনরায় অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে রাহাত তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মাইকেল রাহাতের জুতা নিয়ে চলে গেলে তা ফেরত চাইতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এসে রাহাতকে মারধর করেন। এতে রাহাতের মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে তার সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই আশিককে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লিমন ইসলামসহ প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

ঘটনার পর পুলিশ আশিক ও মাইকেলকে হেফাজতে নেয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে অভিযুক্তদের ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। পরে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি।’

এদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

গেন্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। তবে ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন ঘটনাস্থলে ছিলেন। বিস্তারিত তিনিই বলতে পারবেন।’

ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন বলেন, ‘পুলিশকে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা পাশে থাকা বাঁশ নিয়ে ধাওয়া দিলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর