Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুলাইয়ে হামলার মামলায় আসামি এখন ঢাবিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪০ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০০

ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষককে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর সই করা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামনে আসে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ নিয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডাকসু জানিয়েছে, জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি হাজারো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারিগর ডাকাতখ্যাত প্রক্টর গোলাম রব্বানীকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদ, তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণসহ সব ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর এ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) আহবায়ক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। সেই শূন্যপদেই বর্তমানে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর বিভাগীয় চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তিনি ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের মামলার ৮ নম্বর আসামি। মামলাটির প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা।

অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে অতীতে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২২ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তার নাম রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও তিনি অভিযুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও একাডেমিক বয়কট শুরু করলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিভাগে বহাল থাকেন।

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর