Sunday 28 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘তুরাগে ৭ মরদেহ’ রাজনৈতিক রঙ চড়ানো অপপ্রচার: এসপি শামিমা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুন ২০২৬ ১৯:৩৮

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন।

ঢাকা: ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামিমা পারভীন বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে ‘তুরাগ নদীতে ভাসমান ৭ মরদেহ’ তথ্য রাজনৈতিক রঙ চড়িয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান ধরনের মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা তৎপর।

রোববার (২৮ জুন) বিকেলে ঢাকা জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শামিমা পারভীন বলেন, গত ২৬ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে আশুলিয়ার গরুরহাটের ঘাট সংলগ্ন নদী থেকে মোহাম্মদ সুমন (১৭) নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভিক্টিমের ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (৩৪) আশুলিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন, যা তদন্তাধীন রয়েছে। মোহাম্মদ সুমন গত ২২ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন বন্ধু-বান্ধবসহ তুরাগ নদীতে নৌকা ভ্রমণের জন্য ধৌর ব্রিজ ঘাট থেকে নৌকায় ওঠেন। ওইদিনই বিকেল সাড়ে ৩টায় আশুলিয়া গরুর হাটঘাটে তাড়াহুড়ো করে নৌকা থেকে নামতে গিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান। তিনি সাঁতার জানতেন না বিধায় স্রোতের সঙ্গে নদীতে তলিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

তার সঙ্গের লোকজন তৎক্ষণাৎ খোঁজাখুঁজি করে তাকে পায়নি। এছাড়াও গত ২৪ জুন দুপুর দেড়টায় রনি (৩৫) সাভারের রয়্যাল সিটি খেয়াঘাটে তুরাগ নদীতে গোসল করার সময় পানিতে ডুব দিয়ে আর ওঠেননি। স্থানীয় লোকজন সংবাদ পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে প্রায় ৩০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে ভিক্টিম রনির মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানালে শাহআলী থানা পুলিশ ও আমিনবাজার নৌ থানা পুলিশ মরদেহ শনাক্ত করে এবং মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। ওই ঘটনায় ভিক্টিম রনির পিতা মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন আবেদনের প্রেক্ষিতে অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

অপপ্রচারে লিপ্তকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা জেলায় গত মার্চ-মে তিন মাসে ১৭০টি অপমৃত্যু মামলা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলায় অজ্ঞাতনামা মরদেহ সংক্রান্ত ঘটনা। এই যে ১৭০টা মরদেহ আমরা পেয়েছি এগুলো আমাদের এলাকার না। অন্য জায়গায় হয়তো মার্ডার হয়েছে বা সামথিং, পরে মরদেহ ডাম্পিং করে কোথায় এসে? আমাদের ঢাকা জেলায় এসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এ ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি এবং যারা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। জনসাধারণকে এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন এবং গুজব একটা ব্যাধি আকারে আমাদের সমাজে এখন চলে এসেছে। এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের সহায়তা করুন। যারা এই ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত আছে তাদেরকে আইডেন্টিফাই করে আমাদের সহযোগিতা করুন। যাতে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারি। যারা এই ধরনের অপতৎপরতা করে গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্রকে বা সমাজকে তারা একটা খারাপ দিকে নিয়ে যেতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছি।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল হয়েছে, সেখানে তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে- এরকম কোনো ঘটনা আসলেই ঘটেছিল কি না? প্রশ্নের জবাবে এসপি শামিমা বলেন, মামলাটা তার পরিবারই করেছে, অপমৃত্যু মামলা। পরিবারই ভাষ্য অপমৃত্যু, কোনো অভিযুক্ত এখানে নাই। অপমৃত্যু মামলা যদি পরিবার থেকে থেকেই করে, সে ক্ষেত্রে আমরা ইনভেস্টিগেশনে যাই না। কিন্তু কোনো ব্যক্তি পুলিশের কাছে এসে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেনি যে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না আমরা জানি না। পরিবারের করা মামলার এজাহারে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আর রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা পুলিশের কাজ না। পুলিশের কাজ হচ্ছে অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধের প্রমাণ করে আসামিকে আইনের আওতায় আনা।

আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে যে ৭ জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, এ ধরনের ঘটনা আসলে ঘটেছে কি না? প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। আমার কাছেও এরকম কোনো তথ্য নাই। একটা রাজনৈতিক দল থেকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একজন রাজনৈতিক দল থেকে এই প্রোপাগাণ্ডাটা ছড়ানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিনিয়ত প্রতিনিয়তই অনেক কিছু ছড়ানো হয়। এটা আমরা গুজবকে গুজব হিসেবেই ধরি।

এটা কোনো আলোচিত ঘটনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটা অপপ্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তার পরিবার গুরুত্ব দেয়নি, তার পরিবার বলছে এটা অপমৃত্যু।