Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নারীঘটিত কারণে রাকিবকে হত্যা করে ‘বি’ কোম্পানি: ডিসি মাসুদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৯ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:০০

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (রমনা ডিভিশন) মো. মাসুদ আলম।

ঢাকা: নারীঘটিত কারণে রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে এবং এটা গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির কার্যক্রম। এই গ্রুপের ১০ থেকে ১২ জন রাকিবকে শুধু হত্যার জন্যই খুলনা থেকে ঢাকা এসেছিল।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাকিব হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সংক্রান্ত আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (রমনা ডিভিশন) মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাকিব মোটরসাইকেল পার্কিং করে শহিদ মিনারে প্রবেশের সময়ে এই ঘটনা ঘটে। এসময় শিহাব নামের একজনকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ আটক করে। এই ঘটনায় সবাইকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। রাকিব হত্যাকাণ্ডে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেয়। তারা রাকিবকে হত্যার উদ্দেশে খুলনা থেকে ঢাকা আসে। এমনকি কয়েকদিন আগেই তাদের প্ল্যান ছিল। ঢাকা এসে তারা বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয়।

বিজ্ঞাপন

ডিসি মাসুদ আলম বলেন, নারীঘটিত কারণে রাকিবকে হত্যা করা হয়। স্ত্রী থাকার পরও সাফা নামের এক মেয়েকে সম্ভবত বাজি ধরে ৪ মাস আগে বিয়ে করে রাকিব। এছাড়া জান্নাত মুন নামের আরেক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয় রাকিবের। আর এই মুনের স্বামী হলো সাজিদ। তিনি ছিলেন মাদকাসক্ত। হয়ত মুনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ভাবে নেয়নি সাজিদ।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ মার্চ প্ল্যান অনুযায়ী সরাসরি রাকিব হত্যায় ৪ জন অংশ নেয় এবং বাকিরা তাদের ব্যাকাপে থাকে। মূলত সাগরকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির কার্যক্রম এটা। সাগর এই গ্রুপের বড় মাস্তান। এমনকি এলাকায়ও প্রভাব বিস্তার করে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে ডিসি বলেন, দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বড় কিলিংয়ের ঘটনায় তাদের হাত আছে বলে আমাদের ধারণা। তারা টাকার জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় আমরা ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছি। ধারণা, এই পিস্তল দিয়েই রাকিবকে গুলি করা হয়েছে। গ্রেফতারের বাইরে আরও ৭ থেকে ৮ জন আছে।

হত্যার দায় স্বীকারের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারদের ৪ জন হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি একজনও মৌখিকভাবে আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে তোলা হবে। আর জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

এর আগে, গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় তিন-চারজন যুবক তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় রাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম তারিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকতেন। রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর