চট্টগ্রাম: জেলার ফটিকছড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার পাইন্দং পেলাগাজী মাঠে হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন তিনি।
এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে পেলাগাজী মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই ভিড় করেছের হাজার হাজার মানুষ। কেউ মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে, কেউ সড়কের ধারে, আবার কেউ আশপাশের ভবনের ছাদ ও গাছে উঠে অপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের।
পরে বুলেটপ্রুফ বাসে করে নাজিরহাট পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদরাসার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ ছাড়া মাদরাসায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৬৪ জন শীর্ষ আলেমের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বাবুনগর মাদরাসায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাদরাসা প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ প্যান্ডেল। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা সফরস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি তদারক করেছেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দৌহিত্র মাওলানা রহমত উল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মাদ্রাসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬৪ জন শীর্ষ আলেম উপস্থিত থাকবেন। তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ মতবিনিময় সভা হবে।’
এদিকে পাইন্দং থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সকাল থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার সময় তারা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এতে সড়কের দুই পাশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশাও। নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাটের উত্তরে যৌক্তিক ও সহজ যোগাযোগসমৃদ্ধ স্থানে স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। তাই সদর দফতরের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মতামত ও গণশুনানির সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ফটিকছড়িজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও কর্মসূচির স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনের মধ্য দিয়ে ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়নের দাবিগুলো তার কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ফটিকছড়ির টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ফটিকছড়িতে একটি সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা ও বিদ্যমান কয়েকটি কলেজ সরকারীকরণ, স্থানীয় গ্যাসসম্পদের সুষম বণ্টন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণের ব্যবহারের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া এলাকার ১৮টি চা-বাগান ও চারটি রাবার বাগানে শিল্পভিত্তিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং অব্যবহৃত ও বিস্তীর্ণ খাসজমিতে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রস্তাবও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।