চট্টগ্রাম: দীর্ঘ এক যুগ পর সরাসরি ভোটের মুখোমুখি হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এক প্যানেলের ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সব ক’টি পদে জয় পেয়েছে ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’।
শনিবার (২৩ মে) ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম। চেম্বারের এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় অপর প্যানেল ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ (যা সমমনা পরিষদ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে)। তবে ব্যালট পেপারে তাদের প্রার্থীদের নাম বহাল ছিল।
নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে ১৮টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ছয়জন পরিচালক আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম চেম্বারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল। এরপর থেকে এতদিন সব কমিটিই গঠিত হয়েছে বিনা ভোটে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭২৫ জন, যা মোট ভোটের প্রায় ৪০ শতাংশ। সাধারণ শ্রেণিতে ৪ হাজার ১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৮৪৩টি (প্রায় ৪৬ শতাংশ)। সহযোগী শ্রেণিতে ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮৮২ জন (প্রায় ৩২ শতাংশ)।
চেম্বার নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা ও নবনির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ভোটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করুক। ব্যবসায়ীরা তাদের নেতৃত্ব ঠিক করেছেন। ২৪ পরিচালক পদেই আমাদের প্যানেল পূর্ণ বিজয়ী হয়েছে। এটা ব্যবসায়ী সমাজেরই বিজয়।’