ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা কোনো কিছুতে ভয় পাই না। দেশের পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে এবং এই পরিবর্তন অব্যাহত রাখব। বিএনপি সরকার জনগণের সরকার, তাই জনগণের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদি ও উত্তর মানিকদির রাস্তার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধনকালে প্রশাসক একথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দায়ভার আছে। আমাদেরও তার কর্মী হিসেবে জনগণের কাছে সঠিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা তার পাশে থেকে সহযোগিতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রশাসক বলেন, ঢাকা সিটি সবুজায়ন করার জন্য গাছ লাগানো, জলবদ্ধতা যেখানে হয় সেটাকে কিভাবে রোধ করা যায়, নগরবাসী যাতে পানির মধ্যে হাঁটতে না হয়, মশা উপদ্রব থেকে যাতে নগরবাসী রেহাই পায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
তিনি বলেন, ঢাকা সিটির জনসংখ্যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। আগে একতলা বাসা, টিনের ঘর কোথাও একতলা বিল্ডিং সর্বোচ্চ মাঝে মাঝে দোতলা বিল্ডিং গড়ে তোলা হত। এখন এক একটা ভবন হয়ে গেছে বড় বড় অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আট তালা দশতলা। আগে যেই পরিবারের সদস্য থাকতো চারজন পাঁচজন এখন একটা বাসার ভিতরে দেড়শ দুইশো বড় বড় পরিবার থাকে। এতে ঢাকা সিটির ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক চাহিদা বেড়ে গেছে ফলে গ্যাস বিদ্যুৎও পানির সমস্যা প্রকাশ হয়েছে। আমরা এসব সমস্যার সমাধানে পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। জনগণের সহায়তায় আমরা সফল হব, ইনশাল্লাহ।
প্রশাসক অভিযোগ করেন, তিতাস গ্যাস তার মত কাজ করতেছে কিন্তু বিগত সরকারের আমলে একটি কোম্পানিকে ব্যবসার জন্য এলপিজি গ্যাস বিক্রির অনুমতি দিয়ে গ্যাসের সংকট তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে পাওয়ার কথা থাকলেও বিগত রাজনীতিক সরকারের কারণে আমরা জনগণের মাঝে সঠিকভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ পৌঁছে দিতে পারেনি। বর্তমান সরকার জনগণের মাঝে প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রশাসক বলেন, নগরে বসবাস করার জন্য জনগণের যে অধিকার রয়েছে, সেই অধিকারটুকু আমরা ন্যূনতম যতটুক আছে, তার চেয়ে বেশি দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। গত ১৮ বছরে বছর বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশের আপনার আমার ট্যাক্সের টাকা সব পাচার হয়ে গেছে। জনগণ সহযোগিতা করলে আমরা আপনাদের নগরবাসীর চাহিদা পূরণ করতে পারব। আমরা আমাদের মত করে চেষ্টা করব। আপনাদের কাছে একটা দাবি,আমরা যেসব উন্নয়ন করব আপনারা সেগুলো নিজেদের দায়িত্বে রক্ষণাবেক্ষণ করবেন এবং আমাদেরকেউন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করবেন। যদি আপনারা সিটি কর্পোরেশনকে বৈধ হোল্ডিং যাদের আছে তারা সময়মতো কর পরিশোধ করেন। এরকম রাস্তার নিয়মিতভাবে আপনাদের হবে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে এখানে যে কয়জন মানুষ আছে তাদের প্রত্যেককে এবং তার পরিবারকে সচেতন করতে হবে। আপনাদের মাধ্যমে আপনারা আবার আরেকজন বন্ধু-বান্ধব স্বজন আত্মীয়স্বজনকে জানাবেন আপনার বাসা বাড়ি আশেপাশে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার সহ পাত্রের পরিষ্কার পানি ফেলে দিতে হবে। ছাদ বাগান করলে সাত বাগানের জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা জন্মায়। সকল অবৈধ খাল আমরা দখলমুক্ত করব এবং খালগুলো খনন করে দুই পাশে জনগণের চলাচলের জন্য ওয়াক ওয়ে তৈরি করে দেবো। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প রেডি করছি। নগরবাসীকে অবৈধ খাল দখল মুক্ত করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।
প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এরসকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে হবে এবং ঠিকাদাররা যথাসময়ে নিয়ম-নীতি মেনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন। সবাই মিলে যদি একে অপরের কাজে সহযোগিতা করি, তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবার আগে বাংলাদেশ উন্নয়নে পথে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনাইন এর সভাপতিত্বে প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।