ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) থেকে শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন ১ হাজার ৮৮২টি ট্রিপের মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৬ দশমিক ৪৮ টন বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে অপসারণ করে। ঈদের পরের দিন ২৯ মে ১ হাজার ৫৮৩টি ট্রিপের মাধ্যমে ৬ হাজার ৭১৪ দশমিক শূন্য ৩ টন এবং ঈদের তৃতীয় দিন আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রিপের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৫৩ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। এতে তিন দিনে মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন কোরবানির বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে অপসারণ করেছে ডিএনসিসি।’
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, এখনো বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি হচ্ছে। এসব বর্জ্য রাতের মধ্যে এসটিএসে (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এনে ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, ‘চারটি গরুর হাট এরই মধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, সানারপাড় উত্তরখান, ঢাকা পলিটেকনিক এবং ৩০০ ফিট এলাকার যমুনা মাঠের হাট পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটে কাজ চলমান রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোও পরিষ্কার করা হবে।’
মেট্রোরেল ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রশাসক বলেন, ‘বিভিন্নভাবে সরকার ও ডিএনসিসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। সেখানে মেট্রোরেলের পাশের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য।’
সংবাদ সম্মেলনে দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তাদের ৭৫২টি যানবাহন সম্পূর্ণ সচল ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু জায়গায় অল্প কিছু গাড়ি সাময়িক বিকল হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প উপায়ে অন্য স্থান থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী যে সড়কটি ব্যবহার করে যাতায়াত করেছেন, সেখানে কিছু বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সেগুলো কোরবানির পশুর বর্জ্য ছিল না, বরং সাধারণ গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা ছিল। ভিভিআইপি সড়কের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন অসতর্কতা ও অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন শফিকুল ইসলাম খান।