Saturday 30 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্থপতি’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ মে ২০২৬ ২৩:৫৫

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রংপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনাদর্শ, রাষ্ট্রচিন্তা ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং কূটনৈতিক সাফল্যের মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেন।

শনিবার (৩০ মে) জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিকেলে রংপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী।

বিজ্ঞাপন

আলোচক হিসেবে উপস্থি ছিলেন— রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. জহুরুল হক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দু শংকর গুহ রায়, চিকিৎসক নেতা ডা. জাবেদ আকতার, এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ওবায়দুল করিম।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, সেই সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্ব দেন জিয়াউর রহমান।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের স্থপতি ছিলেন জিয়া। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।’

আলোচনায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের গ্রামীণ অর্থনীতি ও আধুনিক শিল্প বিনির্মাণে অসামান্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. জহুরুল হক বলেন, ‘তিনি বিশ্বাস করতেন, বাঁচলে গ্রাম বাঁচবে, বাঁচবে বাংলাদেশ।’

জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দর্শন ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বক্তারা স্মরণ করে বলেন, তিনি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে আবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। তিনি কেবল বাঙালি জাতিসত্তার চেয়েও বৃহত্তর পরিধিতে সব সম্প্রদায়কে একত্রে আনতে জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করেন।

জিয়া একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল করেন। মহানগর বিএনপির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তিনি সংবাদপত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।’

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তিনি সামরিক শাসনের অবসান ঘটান এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করেন।

রংপুরের আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘উপমহাদেশের কূটনীতির ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একটি মাইলফলক। তিনিই প্রথম দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের প্রস্তাব করেন। যখন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব ছিল, জিয়া সেই দেয়াল ভাঙার উদ্যোগ নেন। সার্ক তারই দূরদর্শিতার ফসল।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত আসন) অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অপরদিকে, রংপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষ্যে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।