ঢাকা: আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবার গন্তব্য এখন নিজ গ্রাম। এরইমধ্যে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ গ্রামে চলে যাওয়ায় শহরের সড়কগুলোতে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক নীরবতা। চিরচেনা যানজটের নগরী এখন এক ভিন্ন, শান্ত ও স্বস্তিদায়ক রূপে ধরা দিয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার নির্বাহী আদেশে একদিন ছুটি বাড়িয়ে টানা সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি শেষে ১ জুন থেকে সরকারি অফিস পুনরায় চালু হবে। তবে ছুটির সমন্বয়ে গত শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি চাকরিজীবীদের অফিস করতে হয়েছে।
ছুটির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মিরপুর, বনানী ও খিলক্ষেতসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা গেছে। বছরের অন্য সময় যে সড়কগুলো যানজটে স্থবির থাকে, সেখানে এখন তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও সামান্য যানবাহন চললেও নেই তাড়াহুড়ো বা জটলা।
যাত্রী সংকটের কারণে গণপরিবহনের সংখ্যাও রাস্তায় কমে গেছে। বিভিন্ন রুটের বাসগুলোকে যাত্রী জোগাড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেক বাস অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখেই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবহণ শ্রমিকদের মতে, অধিকাংশ মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চলাচল তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি দেখা গেছে।
মিরপুর-উত্তরা রুটে চলাচলকারী পরিস্থান পরিবহণের সহকারী কবির বলেন, ‘সাধারণ সময়ে সকালে যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, এখন সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও বাস ভরানো যাচ্ছে না।’
একই বাসের আরেক কর্মী রাসেল বলেন, ‘ঈদের ছুটি শুরুর পর থেকেই যাত্রী কমে গেছে, মানুষ এখন গ্রামে অবস্থান করছে।’
বেসরকারি চাকরিজীবী তামান্না বলেন, ‘বছরের অন্য দিনগুলোতে মিরপুর থেকে মতিঝিল অফিসে যাতায়াত করতেই যেন অর্ধেক জীবন শেষ হয়ে যায়। রাস্তায় জ্যামে আটকে থেকে শুধু মনে হতো, কবে একটু শান্তিতে শ্বাস নিতে পারব। ঈদের এই ছুটিতে রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা পেয়ে অবিশ্বাস্য লাগছে। কোনো যানজট ছাড়া, একদম অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরে মনটা সত্যিই ভরে গেছে। ঢাকা যদি সারাবছর এমন থাকত, তবে কতই না ভালো হতো।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাইসা ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিনের চেনা ঢাকা আর এখনকার ঢাকার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বা রাস্তায় জ্যামের কারণে ক্লাস মিস করার কোনো টেনশন এখন নেই। বান্ধবীদের সাথে নিয়ে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে পুরো শহর ঘুরে বেড়াচ্ছি, শপিং করছি। শুধুমাত্র ঈদের সময়েই চিরচেনা এই কোলাহলপূর্ণ শহরটা একেবারেই ভিন্ন রূপ নেয়। আমরা সারাবছর এই ফাঁকা ঢাকার জন্য অপেক্ষায় থাকি।’
এদিকে, যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনও তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে উঠেছে। সাধারণত ব্যস্ত মোড়ে যান নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হলেও এবার তারা স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।