রংপুর: রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যদি তার ছেলে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি ছেলের শাস্তিও মেনে নেবেন। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে কথা হলে বিনয় দাস সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ঘটনার পর থেকে শোকস্তব্ধ এই পিতা জানান, তিনি নিজেই ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
বিনয় দাস বলেন, ‘শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতির বাড়িতে পুলিশসহ অনেক লোক জড়ো হয়। ভোররাতে পুলিশ এসে সিদ্ধার্থের খোঁজ করে। আমি ওকে চাচার বাড়ি থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই। আমার ছেলে ভালো ছিল, মাদক সেবন করতে কখনও দেখিনি।’
এলাকায় মাদকাসক্ত যুবকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কবে থেকে সে ভেতরে ভেতরে নেশার জগতে প্রবেশ করল, বুঝতেই পারলাম না।’
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আরও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিদ্ধার্থের বাবা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘চারটি মানুষকে দুজন যুবক কীভাবে হত্যা করতে পারে? এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে উদঘাটন করা দরকার।’
বিনয় দাস আরও জানান, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ বাড়িতে ছিল না। সেদিন রাতে ভাত খেয়ে ছেলে বলেছিল, পাশের এক বন্ধুর বাড়িতে থাকবে এবং সকালে সেখান থেকে খেলতে যাবে।
সিদ্ধার্থের মা পাপড়ী দাসও তার ছেলেকে ‘খুব ভালো’ দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে মাদক সেবন করতে কখনও দেখিনি।’
নিকট প্রতিবেশী হয়েও এমন ঘটনায় ছেলে জড়িত—এ প্রশ্নের জবাবে বিনয় দাস বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও প্রতিবেশীদের হারালাম। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করছিলেন। শিক্ষক বিষয়টি দেখে ফেললে এবং প্রতিবাদ জানালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারা গণপতি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
ঘটনার পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও শসা খায় এবং আবারও ইয়াবা সেবন করে। তারা বাড়ির গহনা লুটে নেয় এবং সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করার সূত্রে আগুন দিয়ে গলিয়ে আসল-নকল সোনা শনাক্ত করে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। রোববার বিকেলে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।